ক্ষমা চেয়েও শাস্তি এড়াতে পারবেন না শাকিব, এখন ম্যাচ রেফারির রিপোর্টের অপেক্ষা

মাঠের মধ্যে মেজাজ হারান শাকিব আল হাসান। © HT বাংলা এর দ্বারা সরবরাহকৃত মাঠের মধ্যে মেজাজ হারান শাকিব আল হাসান।

ম্যাচ রেফারির রিপোর্টের উপরেই ঝুলে রয়েছে শাকিব আল হাসানের ভাগ্য। তিনি কী রিপোর্ট দেন, তার ভিত্তিতেই বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডারের শাস্তি নির্ধারিত হবে। শাকিব ফেসবুকের মাধ্যমে তাঁর আচরণের জন্য ক্ষমা চাইলেও, শাস্তির হাত থেকে সম্ভবত বাঁচতে পারবেন না।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের ক্রিকেটকে কলঙ্কিত করেছেন শাকিব আল হাসান। তাঁর ঔদ্ধত আচরণে ক্ষুব্ধ ক্রিকেট মহল। তাঁকে নিয়ে নেটদুনিয়ায় সমালোচনার ঝড় বয়ে চলেছে। শুক্রবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে মহমেডান স্পোর্টিং এবং আবাহনী মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পছন্দ না হওয়ায় প্রথমে সজোরে স্টাম্পে লাথি মারেন শাকিব। পাশাপাশি আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কও জুড়ে দেন। আম্পায়ারকে চোখ রাঙাতেও দেখা যায় তাঁকে। পরে আবার বৃষ্টির জন্য আম্পায়ারের খেলা বন্ধ করায় সিদ্ধান্তে ফের ক্ষোভ উগড়ে দেন। স্টাম্প উপড়ে ছুড়ে ফেলতে দেখা যায় তাঁকে। তবে এখানেই শেষ নয়। ড্রেসিংরুমে ফেরার সময়ে আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ান তিনি। সেই ঝামেলা প্রায় হাতাহাতি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল।

এই সব ঘটনার জন্য ফেসবুকের মাধ্যমে ক্ষমা চাইলেন শাকিব। তিনি লেখেন, ‘প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা, যাঁরা আজকের ম্যাচে আমার আচরণ দেখে কষ্ট পেয়েছেন, বিশেষ করে ঘরে বসে যাঁরা খেলা দেখেছেন, তাঁদের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ এবং ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমার মতো অভিজ্ঞ একজন ক্রিকেটারের কাছ থেকে এমনটা মোটেও কাম্য নয়, কিন্তু মাঝে মাঝে প্রতিকুল পরিবেশে এমনটা হতেই পারে। এমন ভুলের জন্য সব দল, কর্তৃপক্ষ, টুর্নামেন্ট সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও আয়োজক কমিটির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আশা করি, ভবিষ্যতে এমন কোন কাজে আমি আর জড়াব না। সকলের জন্য ভালোবাসা।’

তবে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের চেয়ারম্যান কাজী ইনাম জানিয়েছেন, শাকিবের শাস্তির বিষয়টা ম্যাচ রেফারির রিপোর্টের উপর নির্ভর করছে। কাজী ইনাম স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, ‘খেলার মাঠে অনেক কিছুই ঘটে থাকে। আবাহনী-মহমেডান ম্যাচে যে ঘটনা ঘটেছে, সেটা আমরা সবাই দেখেছি। শাকিব আল হাসানে যা ঘটিয়েছে, সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েও গিয়েছে। তবে বিষয়টি হতাশাজনক। ক্রিকেট এমন একটি খেলা, যেখানে এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি আসতেই পারে। তবে আমরা আশা করব, প্লেয়াররা তাঁদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে। এই টুর্নামেন্টটি আইসিসি স্বীকৃত। ম্যাচ রেফারি, আম্পায়াররা কী রিপোর্ট দেন, তার উপর সবটা নির্ভর করছে। সব কিছুরই একটা নিয়ম আছে। কোন নিয়ম ভাঙলে, কী শাস্তি পেতে হবে, তার উপরে নির্ভর করেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রসঙ্গত, এ দিনের ম্যাচটি ৩১ রানে জিতেছে শাকিবের দল। তিন ম্যাচ পরে মহমেডান জয়ের মুখ দেখল।

ক্ষমা চেয়েও শাস্তি এড়াতে পারবেন না শাকিব, এখন ম্যাচ রেফারির রিপোর্টের অপেক্ষা